পাটশিল্প বন্ধের আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করুন পাটকল শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন ও দাবিকে সমর্থন করুন
আন্দোলন প্রতিবেদন
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০ | অনলাইন সংস্করণ
গত ২৭ জুন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) দেশের রাষ্ট্রায়াত্ত ২৬টি পাটকল বন্ধ করে ২৫,০০০ স্থায়ী শ্রমিকদের (২০১৫ সালের মজুরি কমিশন মেনে) পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করতে যাচ্ছে। পাটকলগুলোতে লোকসানের অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যে আওয়ামী সরকারের পক্ষ থেকেই এসেছে এবং তাদের অনুমোদন সাপেক্ষে তা বলাইবাহুল্য। কারণ পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর এ সংবাদ নিশ্চিত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, শ্রমিকরা যদি এ সিদ্ধান্ত মেনে না নেন তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুমকি দিয়ে রেখেছে। এব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একদফা বৈঠকও পাট মন্ত্রণালয়ের হয়ে গেছে। অন্যদিকে পাটকল শ্রমিকরা গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এবং আন্দোলন শুরু করেছেন ।
২০১৯ সালের শুরুর দিকে শিল্পনগরী খুলনাসহ সারাদেশে পাটকল শ্রমিকরা ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। সরকার তাতে কর্ণপাত না করায় শেষে বাধ্য হয়ে গত বছর ১০ ডিসেম্বর শুরু করেন আমরণ গণ-অনশন কর্মসূচি। প্রথম দফার গণ-অনশনকালে দুুজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
জানুয়ারি ’২০-এর ২ তারিখে পাটকল শ্রমিকদের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পেস্লিপ দেয়ার আশ্বাসে শ্রমিকরা অনশন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার আজ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে বিদায় করে পাটকল বন্ধ করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার বলছে ৮ বছরে লোকসান হয়েছে চার হাজার কোটি টাকা। সরকার বেসরকারি মিলগুলোর বেতন কাঠামো দেখিয়ে রাষ্ট্রায়াত্ত মিলের লোকসানের কারণ হিসেবে বলছে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল শ্রমিকদের বেতন বেশি, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং ৫০ দশকের পুরনো মেশিনের কারণে উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ শতাংশের নীচে। সরকারের ব্যর্থতার দায় চাপাচ্ছে শ্রমিকদের উপর। কিন্তু পাটশিল্পের সাথে যুক্ত আমলাদের অব্যবস্থাপনা, লুটপাটকে আড়াল করে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল পিপিপি’র মাধ্যমে বেসরকারিকরণকে ন্যায়সঙ্গত করছে। তারা রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল ধ্বংস করে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করে পিপিপি-এর মাধ্যমে বেসরকারি মিল মালিকদের মুনাফার পথ প্রশস্থ করছে এবং শোষণের যাঁতাকলে শ্রমিকদের নিক্ষেপ করতে যাচ্ছে।
অথচ ২০১৯ সালে শ্রমিকদের ১১ দফার মধ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সাথে পাটের মৌসুমে মিলগুলোকে পর্যাপ্ত অর্থবরাদ্দ দেওয়া, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা বাতিল করা, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ী করা, বরখাস্ত বন্ধ করা ও বরখাস্ত শ্রমিক-কর্মচারিদের পুনর্বহাল এবং পাটকলগুলোকে লাভজনক করার দাবিও ছিল।
সরকার পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে, পুরাতন মেশিন বদলে ফেলে নতুন মেশিন ক্রয় করে এবং আমলাদের লুটপাট বন্ধ করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারত। কিন্তু তারা তা করবে না এবং তা করতে তারা সক্ষমও নয়। কারণ সরকারি মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দিয়ে বেসরকারি মিল মালিকদের মুনাফার পথ করে দেয়ার বুর্জোয়া কর্মসূচি তারা বাস্তবায়ন করছে যা এসেছে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন থেকে।
সরকারের পক্ষ থেকে পাটকলগুলোর লোকসানের কথা বলা হলেও দেশের এই মৌলিক শিল্পের প্রশ্নে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশন। বাংলাদেশ গঠিত হবার পর নব্য ক্ষমতাসীন দালাল সরকারের আমলারা পাটকলসহ বিভিন্ন মৌলিক শিল্পগুলো জাতীয়করণের নামে অবাধে লুটপাট চালায়। ফলে কারখানাগুলো লোকসানে পড়ে। ৯০ দশকে অলাভজনক দেখিয়ে যখন আদমজী পাটকলসহ একের পর এক পাটকলগুলো বন্ধ হতে থাকে, তখন বিশ্বব্যাংক শ্রমিক-কর্মচারিদের পাওনাদি পরিশোধে অর্থ সহযোগিতা করেছিল। এর অর্থ হলো পাট-শিল্পকে ধ্বংস করাটা ছিল সাম্রাজ্যবাদের তৎকালীন কর্মসূচি, যাকে শাসকশ্রেণি ও তাদের সরকারগুলো বাস্তবায়ন করেছে অনুগত ভৃত্যের মত।
রুগ্ন এ শিল্প যেটুকু রয়েছে তাকেও ধ্বংস করার জন্য এখনও চলছে লুটপাট। ফলে লোকসান দেখিয়ে প্রায়ই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নাম সর্বস্বভাবে পাটশিল্প যতটুকু টিকেছিল, তার ধ্বংস সম্পন্ন করতেই আওয়ামী সরকারের আজকের এই সিদ্ধান্ত। যদিও তারা এজন্য আগেকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করেছিল এবং নিজেরা পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার গলাবাজী করেছিল। আজকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার সাম্রাজ্যবাদের অনুগত দাস হিসেবে সে পথেই হাঁটছে। এই পাটশিল্প ধ্বংসের পেছনে ভারতের স্বার্থও রয়েছে। ভারতে বহু পাটশিল্প গড়ে উঠেছে। কাঁচামাল হিসেবে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ ভারতে পাচার হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের পরিকল্পনায় যেখানে দালাল আওয়ামী সরকার ও শাসকশ্রেণি রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোকে ধ্বংস করতে তৎপর সেখানে তাদের কাছে পাটশিল্পকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং সেখানকার শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা করার আশা অলীক কল্পনামাত্র। কারণ পাটকল শ্রমিক নেতারাও সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতির দিকে না নিয়েই আপস করেন বা করতে বাধ্য হন। তাছাড়া শ্রমিকদের আন্দোলন-সংগ্রামকে রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বারা দমন করা হবে তার প্রস্তুতিও চলছে। তাই পাটকল শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকশ্রেণির দায়িত্ব হচ্ছে আশু দাবি-দাওয়ার আন্দোলনের পাশাপাশি দালাল-বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির লুটপাটের ব্যবস্থা উচ্ছেদের বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলা এবং শ্রমিকশ্রেণির আদর্শ ও নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। কেবলমাত্র এ পথেই শিল্প-কারখানা রক্ষা ও বিকশিত করা সম্ভব।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পাটশিল্প বন্ধের আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করুন পাটকল শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন ও দাবিকে সমর্থন করুন
গত ২৭ জুন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) দেশের রাষ্ট্রায়াত্ত ২৬টি পাটকল বন্ধ করে ২৫,০০০ স্থায়ী শ্রমিকদের (২০১৫ সালের মজুরি কমিশন মেনে) পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করতে যাচ্ছে। পাটকলগুলোতে লোকসানের অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যে আওয়ামী সরকারের পক্ষ থেকেই এসেছে এবং তাদের অনুমোদন সাপেক্ষে তা বলাইবাহুল্য। কারণ পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর এ সংবাদ নিশ্চিত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, শ্রমিকরা যদি এ সিদ্ধান্ত মেনে না নেন তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুমকি দিয়ে রেখেছে। এব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একদফা বৈঠকও পাট মন্ত্রণালয়ের হয়ে গেছে। অন্যদিকে পাটকল শ্রমিকরা গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এবং আন্দোলন শুরু করেছেন ।
২০১৯ সালের শুরুর দিকে শিল্পনগরী খুলনাসহ সারাদেশে পাটকল শ্রমিকরা ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। সরকার তাতে কর্ণপাত না করায় শেষে বাধ্য হয়ে গত বছর ১০ ডিসেম্বর শুরু করেন আমরণ গণ-অনশন কর্মসূচি। প্রথম দফার গণ-অনশনকালে দুুজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
জানুয়ারি ’২০-এর ২ তারিখে পাটকল শ্রমিকদের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পেস্লিপ দেয়ার আশ্বাসে শ্রমিকরা অনশন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার আজ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে বিদায় করে পাটকল বন্ধ করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার বলছে ৮ বছরে লোকসান হয়েছে চার হাজার কোটি টাকা। সরকার বেসরকারি মিলগুলোর বেতন কাঠামো দেখিয়ে রাষ্ট্রায়াত্ত মিলের লোকসানের কারণ হিসেবে বলছে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল শ্রমিকদের বেতন বেশি, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং ৫০ দশকের পুরনো মেশিনের কারণে উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ শতাংশের নীচে। সরকারের ব্যর্থতার দায় চাপাচ্ছে শ্রমিকদের উপর। কিন্তু পাটশিল্পের সাথে যুক্ত আমলাদের অব্যবস্থাপনা, লুটপাটকে আড়াল করে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল পিপিপি’র মাধ্যমে বেসরকারিকরণকে ন্যায়সঙ্গত করছে। তারা রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল ধ্বংস করে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করে পিপিপি-এর মাধ্যমে বেসরকারি মিল মালিকদের মুনাফার পথ প্রশস্থ করছে এবং শোষণের যাঁতাকলে শ্রমিকদের নিক্ষেপ করতে যাচ্ছে।
অথচ ২০১৯ সালে শ্রমিকদের ১১ দফার মধ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সাথে পাটের মৌসুমে মিলগুলোকে পর্যাপ্ত অর্থবরাদ্দ দেওয়া, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা বাতিল করা, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ী করা, বরখাস্ত বন্ধ করা ও বরখাস্ত শ্রমিক-কর্মচারিদের পুনর্বহাল এবং পাটকলগুলোকে লাভজনক করার দাবিও ছিল।
সরকার পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে, পুরাতন মেশিন বদলে ফেলে নতুন মেশিন ক্রয় করে এবং আমলাদের লুটপাট বন্ধ করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারত। কিন্তু তারা তা করবে না এবং তা করতে তারা সক্ষমও নয়। কারণ সরকারি মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দিয়ে বেসরকারি মিল মালিকদের মুনাফার পথ করে দেয়ার বুর্জোয়া কর্মসূচি তারা বাস্তবায়ন করছে যা এসেছে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন থেকে।
সরকারের পক্ষ থেকে পাটকলগুলোর লোকসানের কথা বলা হলেও দেশের এই মৌলিক শিল্পের প্রশ্নে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশন। বাংলাদেশ গঠিত হবার পর নব্য ক্ষমতাসীন দালাল সরকারের আমলারা পাটকলসহ বিভিন্ন মৌলিক শিল্পগুলো জাতীয়করণের নামে অবাধে লুটপাট চালায়। ফলে কারখানাগুলো লোকসানে পড়ে। ৯০ দশকে অলাভজনক দেখিয়ে যখন আদমজী পাটকলসহ একের পর এক পাটকলগুলো বন্ধ হতে থাকে, তখন বিশ্বব্যাংক শ্রমিক-কর্মচারিদের পাওনাদি পরিশোধে অর্থ সহযোগিতা করেছিল। এর অর্থ হলো পাট-শিল্পকে ধ্বংস করাটা ছিল সাম্রাজ্যবাদের তৎকালীন কর্মসূচি, যাকে শাসকশ্রেণি ও তাদের সরকারগুলো বাস্তবায়ন করেছে অনুগত ভৃত্যের মত।
রুগ্ন এ শিল্প যেটুকু রয়েছে তাকেও ধ্বংস করার জন্য এখনও চলছে লুটপাট। ফলে লোকসান দেখিয়ে প্রায়ই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নাম সর্বস্বভাবে পাটশিল্প যতটুকু টিকেছিল, তার ধ্বংস সম্পন্ন করতেই আওয়ামী সরকারের আজকের এই সিদ্ধান্ত। যদিও তারা এজন্য আগেকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করেছিল এবং নিজেরা পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার গলাবাজী করেছিল। আজকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার সাম্রাজ্যবাদের অনুগত দাস হিসেবে সে পথেই হাঁটছে। এই পাটশিল্প ধ্বংসের পেছনে ভারতের স্বার্থও রয়েছে। ভারতে বহু পাটশিল্প গড়ে উঠেছে। কাঁচামাল হিসেবে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ ভারতে পাচার হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের পরিকল্পনায় যেখানে দালাল আওয়ামী সরকার ও শাসকশ্রেণি রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোকে ধ্বংস করতে তৎপর সেখানে তাদের কাছে পাটশিল্পকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং সেখানকার শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা করার আশা অলীক কল্পনামাত্র। কারণ পাটকল শ্রমিক নেতারাও সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতির দিকে না নিয়েই আপস করেন বা করতে বাধ্য হন। তাছাড়া শ্রমিকদের আন্দোলন-সংগ্রামকে রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বারা দমন করা হবে তার প্রস্তুতিও চলছে। তাই পাটকল শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকশ্রেণির দায়িত্ব হচ্ছে আশু দাবি-দাওয়ার আন্দোলনের পাশাপাশি দালাল-বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির লুটপাটের ব্যবস্থা উচ্ছেদের বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলা এবং শ্রমিকশ্রেণির আদর্শ ও নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। কেবলমাত্র এ পথেই শিল্প-কারখানা রক্ষা ও বিকশিত করা সম্ভব।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র